---Advertisement---

PHYSIOGRAPHIC DIVISION OF WEST BENGAL – RARH REGION l পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক বিভাগ – রাঢ় অঞ্চল

By: shishirshil46@gmail.com

On: May 25, 2026

---Advertisement---

পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অংশে অবস্থিত লাল মাটি, উঁচু-নীচু ভূমি, ছোট ছোট টিলা ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলকে রাঢ় অঞ্চল বলা হয়। এটি পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল এবং WBCS, WBPSC, SSC, Railway, KP সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাঢ় অঞ্চল মূলত ছোটনাগপুর মালভূমির পূর্ব প্রান্তের অংশ। এই অঞ্চলে ল্যাটেরাইট বা লাল মাটি, শুষ্ক জলবায়ু, খনিজ সম্পদ, কয়লাক্ষেত্র, শাল বন ও অনিয়মিত নদীপ্রবাহ বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে।


রাঢ় অঞ্চল কী?

রাঢ় অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অংশের একটি স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অঞ্চল, যেখানে দেখা যায়—

  • লাল ল্যাটেরাইট মাটি
  • উঁচু-নীচু ভূমি
  • ছোট ছোট টিলা
  • পাথুরে ভূমি
  • শুষ্ক জলবায়ু
  • খনিজ সম্পদ
  • শুষ্ক পত্রপতনশীল বন

এই অঞ্চলটি মূলত কৃষির তুলনায় শিল্প ও খনিজ সম্পদের জন্য বেশি পরিচিত।


রাঢ় অঞ্চলের অবস্থান

রাঢ় অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অংশে অবস্থিত।

অন্তর্ভুক্ত জেলা

রাঢ় অঞ্চলের অন্তর্গত প্রধান জেলাগুলি হল—

  • বীরভূম
  • বাঁকুড়া
  • পুরুলিয়া
  • পশ্চিম বর্ধমান

এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে—

  • পশ্চিম মেদিনীপুর
  • ঝাড়গ্রাম

এর কিছু অংশকেও রাঢ় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।


রাঢ় অঞ্চলের সীমানা

দিকসীমানা
উত্তরগঙ্গা সমভূমি
দক্ষিণপশ্চিম মেদিনীপুর
পূর্বভাগীরথী ও দামোদর উপত্যকা
পশ্চিমঝাড়খণ্ড

রাঢ় অঞ্চলের গঠন

রাঢ় অঞ্চল মূলত প্রাচীন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত। দীর্ঘদিন ধরে আবহবিকার (Weathering) ও ক্ষয়ের (Erosion) ফলে এখানে লাল মাটি, ছোট টিলা ও ক্ষয়প্রাপ্ত মালভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

উৎপত্তি শিলা

  • আগ্নেয় শিলা (Igneous Rocks)
  • রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks)

রাঢ় অঞ্চলের মাটি

প্রধান মাটি – ল্যাটেরাইট মাটি

রাঢ় অঞ্চলের প্রধান মাটি হলো ল্যাটেরাইট বা লাল মাটি।

ল্যাটেরাইট মাটির বৈশিষ্ট্য

  • লালচে রঙের
  • লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ বেশি
  • হিউমাস কম
  • জলধারণ ক্ষমতা কম
  • উর্বরতা কম
  • শক্ত ও অনুর্বর প্রকৃতির

এই কারণে কৃষি উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম হয়।


ভূপ্রকৃতি

রাঢ় অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি উঁচু-নীচু ও মালভূমি ধরনের।

প্রধান বৈশিষ্ট্য

  • উঁচু-নীচু ভূমি
  • ছোট ছোট টিলা
  • পাথুরে ভূমি
  • ক্ষয়প্রাপ্ত মালভূমি
  • নদীখাত ও গিরিখাত

গুরুত্বপূর্ণ টিলা ও পাহাড়

পাহাড়/টিলাজেলা
অযোধ্যা পাহাড়পুরুলিয়া
সুসুনিয়া পাহাড়বাঁকুড়া
বিহারীনাথ পাহাড়পশ্চিম বর্ধমান

রাঢ় অঞ্চলের জলবায়ু

রাঢ় অঞ্চলের জলবায়ু উষ্ণমণ্ডলীয় মৌসুমি প্রকৃতির।

জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য

গ্রীষ্মকাল

  • অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক
  • তাপমাত্রা ৪২° সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠে

শীতকাল

  • শীতল ও শুষ্ক
  • তাপমাত্রা ৮°–১০° সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়

বৃষ্টিপাত

  • বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ১০০০–১৪০০ মিমি
  • বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে কম

ঋতুভিত্তিক জলবায়ু

ঋতুসময়কালবৈশিষ্ট্য
গ্রীষ্মমার্চ–জুনঅত্যন্ত গরম ও শুষ্ক
বর্ষাজুন–সেপ্টেম্বরবৃষ্টিপাত হয়
শরৎঅক্টোবর–নভেম্বরমনোরম আবহাওয়া
শীতডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারিঠান্ডা ও শুষ্ক

রাঢ় অঞ্চলের নদী

এই অঞ্চলের নদীগুলি মূলত ছোটনাগপুর মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ নদী

দামোদর নদ

  • রাঢ় অঞ্চলের প্রধান নদী
  • “বাংলার দুঃখ” নামে পরিচিত

অজয় নদ

বীরভূম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত।

ময়ূরাক্ষী নদ

বীরভূম ও বর্ধমানের মধ্যে প্রবাহিত।

কংসাবতী নদ

পুরুলিয়ার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উৎপন্ন।

দ্বারকেশ্বর নদ

বাঁকুড়া ও বর্ধমান দিয়ে প্রবাহিত।


নদীগুলির বৈশিষ্ট্য

  • অধিকাংশ নদী অনির্বাহী
  • বর্ষায় জলপূর্ণ থাকে
  • গ্রীষ্মে শুকিয়ে যায়
  • দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়

গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ

বাঁধনদী
মাইথন বাঁধদামোদর
পানচেত বাঁধদামোদর
তিলাইয়া বাঁধবরাকর

এই বাঁধগুলি সেচ, জলবিদ্যুৎ ও জল সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


রাঢ় অঞ্চলের কৃষি

মাটির কম উর্বরতা ও কম বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষি খুব উন্নত নয়।

প্রধান ফসল

  • ধান
  • তেলবীজ
  • ডাল
  • ভুট্টা
  • মিলেট জাতীয় শস্য

কৃষির সমস্যা

  • মাটির উর্বরতা কম
  • সেচের অভাব
  • কম ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত
  • মাটি ক্ষয়
  • ছোট ও খণ্ডিত জমি

প্রাকৃতিক সম্পদ

রাঢ় অঞ্চল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ।

প্রধান খনিজ সম্পদ

কয়লা

রাণীগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র ভারতের অন্যতম প্রাচীন কয়লাক্ষেত্র।

লোহা আকরিক

চায়না ক্লে

ফায়ার ক্লে

ল্যাটেরাইট পাথর


বনজ সম্পদ

এই অঞ্চলে শুষ্ক পত্রপতনশীল বন দেখা যায়।

প্রধান বনজ দ্রব্য

  • শাল
  • মহুয়া
  • বাঁশ
  • লাক্ষা
  • জ্বালানি কাঠ

উদ্ভিদ আচ্ছাদন

প্রধান বনভূমি

শুষ্ক পত্রপতনশীল বন

গুরুত্বপূর্ণ গাছ

গাছগুরুত্ব
শালপ্রধান বনজ গাছ
পলাশবসন্তে লাল ফুল ফোটে
মহুয়াঅর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ
পিয়ালশুষ্ক বনে জন্মায়
কুসুমতেলবীজের জন্য পরিচিত

শিল্পাঞ্চল

রাঢ় অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল।

প্রধান শিল্প

  • লোহা ও ইস্পাত শিল্প
  • তাপবিদ্যুৎ শিল্প
  • সিমেন্ট শিল্প
  • খনিজ শিল্প

গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল

অঞ্চলগুরুত্ব
দুর্গাপুরইস্পাত ও বিদ্যুৎ শিল্প
আসানসোলকয়লা ও শিল্পাঞ্চল
রাণীগঞ্জকয়লাক্ষেত্র

পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • প্রধান মাটি → ল্যাটেরাইট মাটি
  • প্রধান নদী → দামোদর
  • গুরুত্বপূর্ণ কয়লাক্ষেত্র → রাণীগঞ্জ
  • জলবায়ু → উষ্ণমণ্ডলীয় মৌসুমি
  • বনভূমি → শুষ্ক পত্রপতনশীল বন
  • প্রধান অঞ্চল → ছোটনাগপুর মালভূমির পূর্ব প্রান্ত

শেষ কথাঃ

রাঢ় অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল। এই অঞ্চলের লাল মাটি, শুষ্ক জলবায়ু, খনিজ সম্পদ, নদী, বনভূমি এবং শিল্পাঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। WBCS, WBPSC, SSC, Railway, KP সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় রাঢ় অঞ্চল থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে। তাই এই অধ্যায়টি ভালোভাবে পড়া অত্যন্ত জরুরি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment